` বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র | পড়াশোনা সবসময় সবখানে™

পড়াশোনা সবসময় সবখানে

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র

2019-Apr-09 11:55 AM
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

বিশ্বে খুব কম সংখ্যক দেশ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র দিয়ে যুদ্ধ করেছিল বাংলাদেশ তা মধ্যে অন্যতম। যদিও ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করা হয় কিন্তু ১০ এপ্রিল তাজউদ্দীন আহমেদ এর বাংলাদেশ সরকার গঠনের ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেষে পূর্বের তারিখ ১০ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে ইংরেজিতে প্রণীত প্রক্লেমেশন অব ইন্ডিপেনডেন্স ঘোষথ ও জারি করা হয় এবং ২৩ মে ১৯৭১ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

“স্বধীনতার ঘোষণাপত্র (অনূদিত)”

মুজিবনগর, বাংলাদেশ
১০ এপ্রিল, ১৯৭১

যেহেতু একটি সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর হতে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেহেতু এই নির্বাচন বাংলাদেশের জনগন ১৬৯ জন প্রতিনিধির মধ্যে আওয়ামী লীগ দলীয় ১৬৭ জনকে নির্বাচিত করেন।

এবং

যেহেতু সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে জেনারেল ইয়াহিয়া খান জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণকে ১৯৭১ সালের ৩রা মার্চ তারিখে মিলিত হবার জন্য আহ্বান করেন,

এবং

যেহেতু এই আহূত পরিষদ সভা স্বেচ্ছাচারী ও বেআইনীভাবে নির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়,

এবং

যেহেতু পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষার পরিবর্তে এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিগণের সহিত আলোচনা অব্যহত থাকা অবস্থায় একটি অন্যায় ও বিশ্বাস ঘাতকতামূলক যুদ্ধে ঘোষণা করে।
এবং যেহেতু এরুপ বিশ্বাসঘাতকতামূলক আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিতা নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের জনগণের আত্ননিয়ন্ত্রণের আইনানুগ, অদিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৭১ রক্ষার জন্য বাংলাদেরেশর জনগণের প্রতি উদত্ত আহ্বান জানান,

এবং

যেহেতু একটি বর্বর ও নৃশংস যুদ্ধ পরিচালনায় পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ, অন্যান্যের মধ্যে, বাংলাদেশের বেসামরিক ও নিরস্ত্র জনগণের উপর নজিরবিহীন নির্যাতন ও গণহত্যার অসংখ্য অপরাধ সংঘটন করেছে এবঙ এখনও অনবরত করে চলছে,

এবং

যেহেতু পাকিস্তান সরকার একটি অন্যায যুদ্ধে চাপিয়ে দিয়ে, গণহত্যা করে এবং অন্যান্য দমনমূলক কার্যকলাপের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিগণের পক্ষে একত্রিত হয়ে একটি সংবিধান প্রণয়ন এবং নিজেদের জন্য একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব করে তুলেছে,

এবং

যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ তাহাদের বীরত্ব সাহসিকতা ও ‍বিপ্লবী উদ্দীপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের ভূখন্ডের উপর তাদের কার্যকর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে।
সেহেতু আমরা বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। জনগণ কর্তৃক আমাদিগকে প্রদত্ত কর্তৃত্বের মর্যাদা রক্ষার্থে, নিজেদের সমম্বয়ে যথাযথ ভাবে একটি গঠনপরিষদ গঠন করলাম।

এবং

পারস্পরিক আলোচনা করিয়া

এবং

বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানসিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করণার্থে।
সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র রুপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করলাম এবং এর দ্বারা বঙ্গবন্ধু শেক মুজিবুর রহমান কর্তৃক ইতিপূর্বে ঘোষিত স্বাধীনতা দুঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করলাম,

এবং

এতদ্বারা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতেছি যে, সংবিধান গ্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি থাকবেন এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রজাতন্ত্রের উপ-রাষ্ট্রপতি থাকবেন।

এবং

রাষ্ট্রপতি প্রজাতন্ত্রের সকল সশস্ত্র বাহিনীর সবাধিনায়ক হবেন।
ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা সহ প্রজাতন্ত্রের সকল নির্বাহী ও আইন প্রণয়ন ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
একজন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং তার বিবেচনায় পয়োজনীয় অন্যান্য মন্ত্রী নিয়োগ ক্ষমতার অধিকারী হবেন। কর আরোপণ ও অর্থ ব্যয় ক্ষমতার অধিকারী হবেন, গণ পরিষদ আহ্বান ও শূলতবিকরণ ক্ষমতার অধিকারী হবেন।

এবং

বাংলাদেশের জনগণকে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও ন্যায়ানুগ সরকার প্রদানের লক্ষে প্রয়োজনীয় অন্যঅন্য সকল কার্য করতে পারবেন।
আমরা বংলাদেশের জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ আরও নিদ্ধান্ত প্রহণ করছি যে, কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি না থাকা বা রাষ্ট্রপতি তা কার্যভার গ্রহণ করতে অসমর্থ হওয়া বা তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে অসমর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে, রাষ্ট্রপতির উপর এতদ্বারা অর্পিত সমুদয় ক্ষমতা, কর্তব্য ও দায়িত্ব উপ-রাষ্ট্রপতি থাকিবে এবং তিনি তার প্রয়োগ ও পালন করবেন।
আমরা আরও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছি যে, জাতিমন্ডলীর সদস্য হিসাবে আমাদের উপর যে দায় ও দায়িত্ব বর্তাইবে তা পালন ও বাস্তবায়ন করা এবং জাতিসংঘের সনদ মেনে চলার প্রতিশ্রুতি আমরা দিতেছি।
আমরা আরও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতেছি যে, স্বাধীনতার এই ঘোষণাপত্র ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তারিখে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।
আমরা আরও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতেছি যে, এ দলিল কার্যকর করার লক্ষ্যে এবং রাষ্ট্রপতি ও উপ-রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনার জন্য অধ্যাপক ইউসুফ আলিফ আমাদের যথাযথ ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি নিয়োগ করলাম।

অধ্যাপক ইউসুফ আলী
বাংলাদেশ গণপরিষদের ক্ষমতাবলেও
তদন্তাধীনে যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি
[সংবিধান থেকে উদ্ধৃত]


 


News all time